মূল বিষয়বস্তুতে যান মূল বিষয়বস্তুতে যান
নির্বাহী গোয়েন্দা

এলবিডব্লিউয়ের ৭ ভুল ব্যাটাররা করেন

এলবিডব্লিউ শুধু প্যাডে বল লাগলেই হয় না; আইসিসির আইন ৩৬ অনুযায়ী বলের পিচিং, ব্যাটারের শরীরে আঘাতের স্থান, উইকেটের সম্ভাব্য গতিপথ এবং শট খেলার চেষ্টা—এই চারটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আউটের সিদ্ধান্ত আ...

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ 5 min read
এলবিডব্লিউয়ের ৭ ভুল ব্যাটাররা করেন

এলবিডব্লিউয়ের ৭ ভুল ব্যাটাররা করেন

এলবিডব্লিউ শুধু প্যাডে বল লাগলেই হয় না; আইসিসির আইন ৩৬ অনুযায়ী বলের পিচিং, ব্যাটারের শরীরে আঘাতের স্থান, উইকেটের সম্ভাব্য গতিপথ এবং শট খেলার চেষ্টা—এই চারটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই আউটের সিদ্ধান্ত আসে। বাংলাদেশ, ভারত বা ইংল্যান্ডের ২২ গজে আম্পায়ার একই মূলনীতি প্রয়োগ করেন। ক্রিকেটের আইন দেখভালকারী মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব, অর্থাৎ এমসিসি, এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি নির্ধারণ করে; ডিআরএসে হক-আই বলের সম্ভাব্য পথ বিশ্লেষণ করে। গুরুত্বপূর্ণ সীমা হলো, বলটি সাধারণত উইকেটের লাইনে বা অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করতে পারে, কিন্তু ব্যাটারকে শট খেলার চেষ্টা করতে হবে। ২০২৬ সালেও এই কাঠামো কার্যকর। তাই প্যাডে আঘাত দেখেই চিৎকার না করে প্রথমে চারটি প্রশ্ন করুন: বল কোথায় পড়েছে, কোথায় লেগেছে, উইকেটে লাগত কি না এবং ব্যাটার শট খেলেছিলেন কি না।

সবুজ মাঠে ব্যাটারের প্যাডে বল লাগার মুহূর্ত, আম্পায়ার আঙুল তুলছেন এবং ফিল্ডাররা আবেদন করছেন

এলবিডব্লিউ বোঝার আগে একটি ভুল ধারণা সরিয়ে ফেলুন: প্যাডে বল লাগা মানেই এলবিডব্লিউ নয়। বোলার, ব্যাটার, বলের গতিপথ, স্টাম্প, আম্পায়ার এবং ডিআরএস—সবকিছুর অবস্থান একসঙ্গে বিচার করতে হয়। বোলিং বিশ্লেষণ-এ ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান, বিপিএল কভারেজ এবং ব্যাটিং-বোলিং কৌশল বিশ্লেষণের সময় এই চার ধাপ আলাদা না করলে হিসাবটি গুলিয়ে যায়—হ্যাঁ, ক্রিকেটের আইনও কখনও কখনও গণিত পরীক্ষার মতো আচরণ করে।

আরও নিয়মভিত্তিক ক্রিকেট ব্যাখ্যা পড়তে চাইলে নিচের নির্দেশিকাটি দেখুন।

আরও জানুন

দ্রুত তুলনা: কোন পরীক্ষায় কী দেখা হয়?

এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তকে চারটি পরীক্ষায় ভাগ করলে বিষয়টি অনেক পরিষ্কার হয়। এমসিসির আইন ৩৬ অনুসারে প্রতিটি পরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়; একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ না হলে আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দিতে পারেন না। নিচের সারণিতে সাধারণ ভুল ও সঠিক ব্যাখ্যা পাশাপাশি রাখা হলো, যাতে টেলিভিশন রিপ্লে দেখার সময় আপনি নিজেরাই সিদ্ধান্তের যুক্তি ধরতে পারেন।

পরীক্ষা এলবিডব্লিউ হওয়ার শর্ত সাধারণ ভুল ধারণা
পিচিং বল স্টাম্পের লাইনে বা অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করতে পারে বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়লেই সব সময় বৈধ
ইমপ্যাক্ট বল শরীরের এমন অংশে লাগতে হবে যা স্টাম্প রক্ষা করছিল প্যাডের যেকোনো অংশে লাগলেই আউট
উইকেটের পথ বল স্টাম্পে আঘাত করত বলে প্রযুক্তি বা আম্পায়ারের বিচার থাকতে হবে শুধু বলের গতি বেশি হলেই আউট
শটের চেষ্টা শট না খেললে অফ স্টাম্পের বাইরের ইমপ্যাক্টও আউট হতে পারে ব্যাট ছোঁয়ালেই শট খেলা ধরা হয়

এখানে ব্যাট ও প্যাডের ক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। বল প্রথমে ব্যাটে লাগলে এলবিডব্লিউ নয়; তবে ব্যাট ও শরীর একই মুহূর্তে আঘাত পেলে আইনের ব্যাখ্যা আলাদা হতে পারে। ডিআরএসে তৃতীয় আম্পায়ার হক-আই, বলের দৃশ্যমান প্রমাণ এবং মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত—সব একসঙ্গে বিচার করেন। ক্রিকেটের ডিআরএস নিয়মের সহজ গাইড

প্রথম ধাপ: বল কোথায় পিচ করেছিল?

বল স্টাম্পের লাইনে, অফ স্টাম্পের বাইরে বা লেগ স্টাম্পের বাইরে কোথায় পড়েছে—এটাই এলবিডব্লিউ বিশ্লেষণের প্রথম ধাপ। বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে, ব্যাটার শট খেলেছেন বা না খেলেছেন, সাধারণত এলবিডব্লিউ হয় না। কিন্তু অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল এলবিডব্লিউ হতে পারে, যদি ব্যাটার শট খেলেননি এবং পরের পরীক্ষাগুলোও পূরণ হয়।

এমসিসির আইন ৩৬-এর এই অংশে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। বল অফ স্টাম্পের বাইরে পড়েছে বলে সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না; ব্যাটার সত্যিই শট খেলেছেন কি না, সেটি বিচার করতে হয়। ব্যাটার যদি সামনের পা বাড়িয়ে ব্যাট নামান, কিন্তু ব্যাট বলের লাইনে পৌঁছানোর আগেই প্যাডে লাগে, আম্পায়ার সেটিকে শট খেলার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। অর্থাৎ ব্যাটারের উদ্দেশ্য নয়, দৃশ্যমান চলন এবং আঘাতের মুহূর্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালের আইসিসি খেলার শর্ত এবং ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক ম্যাচ কাঠামোতে এই মূলনীতি বদলায়নি। ডিআরএসে বলের পিচিং সাধারণত “পিচিং ইন লাইন”, “অফ সাইডের বাইরে” বা “লেগ সাইডের বাইরে” হিসেবে দেখানো হয়। এক সেন্টিমিটারের পার্থক্যও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে, তাই দর্শকের চোখে সামান্য বাইরে মনে হওয়া বল প্রযুক্তির মানচিত্রে স্টাম্পের লাইনে থাকতে পারে। শুনে রাখুন—এটাই গুরুত্বপূর্ণ অংশ: পিচিং কেবল শুরু, এলবিডব্লিউয়ের সম্পূর্ণ প্রমাণ নয়।

এই পর্যায়ে বোলারদের লেংথ, সুইং এবং স্পিন বুঝতে আমাদের কৌশলভিত্তিক বিশ্লেষণটি কাজে লাগবে।

নিয়মগুলো দেখুন

দ্বিতীয় ধাপ: বল শরীরের কোথায় লেগেছিল?

বল ব্যাটারের পায়ের পাতা, প্যাড, হাঁটু বা উরুতে লাগলেই এলবিডব্লিউ হয় না; আঘাতের স্থানকে স্টাম্প রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হয়। ব্যাটার যদি ব্যাট দিয়ে বল ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং বল ব্যাটে না লেগে শরীরে লাগে, তখন আম্পায়ার দেখেন শরীরের সেই অংশ স্টাম্পের সরাসরি সামনে ছিল কি না। কাঁধ, বাহু বা শরীরের এমন অংশ যা স্টাম্প রক্ষার সঙ্গে যুক্ত নয়, সাধারণত এই পরীক্ষায় একইভাবে বিবেচিত হয় না।

আইন ৩৬-এর ভাষায় “প্যাড” শব্দটি অনেক দর্শক আক্ষরিক অর্থে নেন, কিন্তু শরীরের যে কোনো অংশ দিয়ে উইকেট রক্ষা করার পরিস্থিতি তৈরি হলে সিদ্ধান্তের প্রশ্ন আসে। উদাহরণ হিসেবে, ডানহাতি ব্যাটার অফ স্পিনারের বিরুদ্ধে প্যাড সামনে রাখলে বল হাঁটুর নিচে লাগতে পারে; কিন্তু একই বল যদি শরীরের পাশ ঘেঁষে লেগ স্টাম্পের বাইরে আঘাত করে, উইকেটের সম্ভাব্য পথ প্রমাণ করা কঠিন হবে। বলের লাইন, ব্যাটারের অবস্থান এবং স্টাম্পের উচ্চতা এখানে একসঙ্গে কাজ করে।

২০১৭ সালের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটারের হাঁটুর নিচের অংশ, স্টাম্পের উচ্চতা এবং বলের পূর্বানুমিত পথ নিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। আইসিসির অফিসিয়াল খেলার আইন এবং এমসিসির আইন ৩৬ এই নীতিগুলোর প্রামাণ্য উৎস। এমসিসির আইনি কাঠামোর সারকথা হলো, “বল ব্যাটে না লেগে শরীরে আঘাত করলে উইকেটের সম্ভাব্য পতন বিচার করতে হবে।” এই বাক্যটি সহজ, কিন্তু রিপ্লেতে পাঁচটি ক্যামেরা না থাকলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়।

তৃতীয় ধাপ: বল কি স্টাম্পে লাগত?

বল শরীরে লাগার পর যদি তার সম্ভাব্য গতিপথ স্টাম্পে আঘাত করত, তবেই এলবিডব্লিউয়ের মূল শর্ত পূরণ হয়। মাঠের আম্পায়ার বলের গতি, সুইং, স্পিন, বাউন্স এবং ব্যাটারের অবস্থান দেখে সিদ্ধান্ত দেন; ডিআরএস থাকলে হক-আই সেই পথের ত্রিমাত্রিক অনুমান দেখায়। এখানে “লেগ স্টাম্পের অর্ধেক” বা “বেলের নিচে” ধরনের দর্শক-ব্যাখ্যা প্রায়ই বিভ্রান্তিকর, কারণ প্রযুক্তি বলের কেন্দ্ররেখা ও স্টাম্পের অঞ্চল আলাদা করে বিশ্লেষণ করে।

ডিআরএসের ক্ষেত্রে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে স্পষ্ট প্রমাণ দরকার। বলের পিচিং ইন লাইন হলেও যদি ইমপ্যাক্ট স্টাম্পের বাইরে দেখায়, সিদ্ধান্ত নট আউট থাকতে পারে। আবার বলের ইমপ্যাক্ট ঠিক লাইনে থাকলেও হক-আই যদি দেখায় বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে চলে যেত, এলবিডব্লিউ হবে না। প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে জানে না; এটি বলের আগের গতি ও কোণ থেকে সম্ভাব্য পথ গণনা করে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, হক-আইয়ের গ্রাফিক শতভাগ বাস্তব দৃশ্য নয়; এটি ক্যামেরা, বলের গতিপথ এবং মডেলভিত্তিক প্রক্ষেপণের সমন্বয়। তাই “অর্ধেক বল স্টাম্পে লাগত” ধরনের কথাকে সরল সত্য ভাববেন না। ডিআরএসে আম্পায়ার্স কল কীভাবে কাজ করে আম্পায়ার্স কল থাকলে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে, যদিও প্রযুক্তির অনুমান সীমার কাছাকাছি থাকে। আবেগকে স্কোরবোর্ডে লিখলে রান বাড়ে না—ডেটা দেখুন, তারপর তর্ক করুন।

টেলিভিশন ডিআরএস পর্দায় হক-আইয়ের বলের পথ, তিনটি স্টাম্প এবং আম্পায়ার্স কল দেখানো হচ্ছে

এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তে বোলারের অ্যাঙ্গেল, ব্যাটারের ক্রিজের অবস্থান এবং বলের সিমও গুরুত্বপূর্ণ। একজন ডানহাতি ব্যাটারের বিপক্ষে কভার ড্রাইভ ঠেকাতে দেরি হলে প্যাড সামনে চলে আসে; অন্যদিকে বাঁহাতি ব্যাটারের জন্য একই বলের প্রবেশকোণ বদলে যায়। এই কারণে একই লেংথের বল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে এক রকম, আর ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে অন্য রকম ফল দিতে পারে—পিচ, বাউন্স এবং ব্যাটারের অবস্থান বদলেছে বলে।

চতুর্থ ধাপ: ব্যাটার কি শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন?

ব্যাটার শট খেলেছেন কি না, বিশেষত অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলের ক্ষেত্রে, এলবিডব্লিউয়ের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ। সাধারণভাবে ব্যাটার শট খেলতে চেষ্টা না করলে অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলেও এলবিডব্লিউ হতে পারে। কিন্তু ব্যাটার যদি ব্যাট নামিয়ে, পা বাড়িয়ে বা নির্দিষ্ট স্ট্রোকের জন্য শরীর সরিয়ে চেষ্টা করেন, আম্পায়ার সেই চলনকে শট হিসেবে গণ্য করতে পারেন।

এখানে একটি ভুল ধারণা সংশোধন করা জরুরি: ব্যাট বল ছুঁয়েছে কি না, সেটিই শটের একমাত্র প্রমাণ নয়। ব্যাটারের ব্যাকলিফট, সামনের পায়ের দিক, কবজির ব্যবহার এবং বলের লাইনে ব্যাট আনার চেষ্টা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং টেস্ট ক্রিকেটে একই নীতি থাকলেও সম্প্রচার ক্যামেরার কোণ ভিন্ন হওয়ায় দর্শকের ব্যাখ্যা বদলে যায়।

এমসিসি ও আইসিসি উভয় কাঠামোতেই ব্যাটারের বাস্তব শটের চেষ্টা এবং আত্মরক্ষামূলক ভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, অফ স্টাম্পের বাইরে টার্ন করা বল প্যাডে লাগলে ব্যাটার যদি ব্যাট সামনে বাড়িয়ে থাকেন, “শট খেলেননি” বলা কঠিন। বিপরীতে ব্যাটার যদি ব্যাট শরীরের পেছনে রেখে স্থির থাকেন এবং বল প্যাডে লাগে, এলবিডব্লিউয়ের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই শুধু ব্যাটারের মুখভঙ্গি দেখে সিদ্ধান্ত দেবেন না; ক্যামেরায় পা ও ব্যাটের চলন দেখুন।

আরও সূক্ষ্ম শট-বাছাই ও প্যাড ব্যবহারের বিশ্লেষণ পড়তে এই রেফারেন্সটি সংরক্ষণ করুন।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন

আসল ভুলগুলো কী, এবং কার কী বেছে নেওয়া উচিত?

এলবিডব্লিউয়ের ভুল সাধারণত সাতটি জায়গায় হয়: পিচিং ভুল পড়া, ব্যাট-শরীরের ক্রম না দেখা, ইমপ্যাক্টের উচ্চতা উপেক্ষা করা, স্টাম্পের পথ অনুমান না করা, শটের চেষ্টা ভুল বোঝা, নো-বল যাচাই না করা এবং আম্পায়ার্স কলকে চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত প্রমাণ ভাবা। ব্যাটারদের জন্য পায়ের অবস্থান ও ব্যাটের পথ সবচেয়ে জরুরি; বোলারদের জন্য স্টাম্প-টু-স্টাম্প লাইন এবং সোজা সিম বেশি কার্যকর। দর্শকদের জন্য সেরা পদ্ধতি হলো চার ধাপ লিখে দেখে তারপর সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

নো-বল হলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না, যদিও বল প্যাডে লেগে স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে প্রথমে বোলারের সামনের পা ক্রিজের নিয়ম মেনেছে কি না যাচাই করতে হবে। এই তথ্য অনেক সংক্ষিপ্ত ভিডিওতে বাদ পড়ে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটি সিদ্ধান্তের মৌলিক শর্ত। ২০২৬ সালের ম্যাচ বিশ্লেষণেও নো-বল, পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং উইকেটের পথ আলাদা ট্যাগে রাখা উচিত; একসঙ্গে “প্যাডে লেগেছে” লিখলে তথ্যের অর্ধেক হারিয়ে যায়।

কার জন্য সবচেয়ে কার্যকর নজর
ব্যাটার অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছাড়ার সিদ্ধান্ত, ব্যাট-প্যাডের দূরত্ব
বোলার সোজা লাইন, ফুল লেংথ, সুইংয়ের পর বলের অবস্থান
আম্পায়ার নো-বল, পিচিং, ইমপ্যাক্ট, উইকেটের পথ
দর্শক রিপ্লের চারটি ধাপ এবং আম্পায়ার্স কল

শুনে রাখুন—এটাই গুরুত্বপূর্ণ অংশ: আউটের সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য বোলারের শুধু গতি বাড়ানো দরকার নেই। গবেষণাভিত্তিক ম্যাচ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাটারের প্যাডে বল পৌঁছানোর আগে সুইং কমে গেলে বা স্পিনের পর বল সোজা হলে স্টাম্পের সম্ভাব্য পথ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিপরীতে অতিরিক্ত ইন-সুইং কখনও লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করিয়ে এলবিডব্লিউয়ের সুযোগ নষ্ট করে। অর্থাৎ “আরও জোরে” নয়, “সঠিক লাইনে” বোলিংই বেশি হিসাবি পছন্দ।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে বোলার স্টাম্প লক্ষ্য করছেন, ব্যাটার সামনের পা বাড়িয়ে প্রতিরোধে প্রস্তুত

চূড়ান্ত স্কোর: কোন নিয়মটি মনে রাখবেন?

এলবিডব্লিউয়ের চূড়ান্ত স্কোর ৪-ধাপের: বল কোথায় পিচ করেছে, শরীরে কোথায় লেগেছে, স্টাম্পে লাগত কি না এবং ব্যাটার শট খেলেছিলেন কি না। এর সঙ্গে নো-বল যাচাই যোগ করলে মোট পাঁচটি প্রশ্ন হয়। এমসিসির আইন ৩৬, আইসিসির খেলার শর্ত এবং ডিআরএসের হক-আই—এই তিন স্তর মিলেই আধুনিক সিদ্ধান্ত তৈরি করে। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং প্রযুক্তির সীমা বোঝা—দুটিই ক্রিকেট জ্ঞানের অংশ।

ব্যাটারদের সেরা পছন্দ হলো পা ও ব্যাটের অবস্থান পরিষ্কার রাখা; বোলারদের সেরা পছন্দ হলো স্টাম্পের লাইনে বল ঢোকানো; দর্শকদের সেরা পছন্দ হলো আবেদনের শব্দে নয়, প্রমাণের ক্রমে বিচার করা। বোলিং বিশ্লেষণ-এর ম্যাচ পর্যালোচনায় এই কাঠামো ব্যবহার করলে এলবিডব্লিউ নিয়ে বিতর্ক আর অনুমানের লড়াই থাকবে না। পরের বার প্যাডে বল লাগলে শুধু “আউট” বলবেন না—চারটি প্রশ্নের উত্তর দিন। ক্রিকেট আপনাকে অন্তত এতটুকু গণিত শিখতেই বাধ্য করবে।

আরও ক্রিকেট আইন, বিপিএল পরিসংখ্যান এবং বোলিং কৌশল এক জায়গায় অনুসরণ করতে নিচের পাতায় যান।

ক্রিকেট বিশ্লেষণ দেখুন

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ কী?

উত্তর: এলবিডব্লিউ হলো এমন আউট, যেখানে ব্যাটে না লেগে বল ব্যাটারের শরীরে লাগে এবং আম্পায়ারের বিচারে বলটি স্টাম্পে আঘাত করত। এমসিসির আইন ৩৬ অনুযায়ী পিচিং, ইমপ্যাক্ট, উইকেটের সম্ভাব্য পথ এবং শট খেলার চেষ্টা বিবেচনা করা হয়। নো-বল হলে এলবিডব্লিউ দেওয়া যায় না।

প্রশ্ন: ক্রিকেটে এলবিডব্লিউ কীভাবে হয়?

উত্তর: প্রথমে দেখতে হয় বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছে কি না; এরপর শরীরে লাগার স্থান এবং বলের স্টাম্পে পৌঁছানোর সম্ভাবনা পরীক্ষা করতে হয়। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বলের ক্ষেত্রে ব্যাটার শট খেলেছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডিআরএস থাকলে হক-আই এই তিনটি দৃশ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে দেখায়।

প্রশ্ন: প্যাডে বল লাগলেই কি এলবিডব্লিউ হয়?

উত্তর: না, প্যাডে বল লাগা একা এলবিডব্লিউয়ের প্রমাণ নয়। বল প্রথমে ব্যাটে লাগলে এলবিডব্লিউ হয় না, আর বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করলে সাধারণত সিদ্ধান্ত নট আউট থাকে। পাশাপাশি বলের সম্ভাব্য পথ স্টাম্পে আঘাত করত কি না, সেটিও প্রমাণিত হতে হবে।

প্রশ্ন: এলবিডব্লিউ এবং বোল্ডের পার্থক্য কী?

উত্তর: এলবিডব্লিউতে বল শরীরে লেগে স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা তৈরি হয়, আর বোল্ডে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে। বোল্ডের জন্য পিচিং, ইমপ্যাক্ট বা শটের চেষ্টা পরীক্ষা লাগে না। তাই একই বল প্যাড এড়িয়ে স্টাম্পে লাগলে বোল্ড, আর প্যাডে থেমে গেলে শর্ত পূরণ হলে এলবিডব্লিউ।

প্রশ্ন: ডিআরএসে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্ত কীভাবে বদলায়?

উত্তর: ডিআরএস মাঠের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বলের পিচিং, ইমপ্যাক্ট এবং স্টাম্পে সম্ভাব্য আঘাত দেখায়। তৃতীয় আম্পায়ার হক-আইয়ের প্রক্ষেপণ, বলের দৃশ্যমান প্রমাণ এবং মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বিচার করেন। আম্পায়ার্স কল থাকলে প্রযুক্তিগত সীমার কারণে মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে।

প্রশ্ন: এলবিডব্লিউয়ের জন্য কী কী শর্ত পূরণ করতে হয়?

উত্তর: সাধারণত নো-বল না হওয়া, বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ না করা, ব্যাটে আগে না লাগা, শরীরে বৈধ স্থানে আঘাত করা এবং বল স্টাম্পে লাগত—এই শর্তগুলো দরকার। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করা বল হলে ব্যাটার শট খেলেছেন কি না, তা অতিরিক্তভাবে যাচাই করা হয়। একটি শর্ত ব্যর্থ হলে এলবিডব্লিউ বাতিল হতে পারে।

প্রশ্ন: আম্পায়ার্স কল থাকলে এলবিডব্লিউ কেন বদলায় না?

উত্তর: আম্পায়ার্স কল হলো প্রযুক্তির অনুমান সীমার কাছাকাছি অবস্থায় মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার নীতি। হক-আই বলের সম্ভাব্য পথ দেখালেও এটি বাস্তব বলের ভবিষ্যৎ দৃশ্য নয়, বরং তথ্যভিত্তিক প্রক্ষেপণ। তাই ইমপ্যাক্ট বা স্টাম্পে আঘাতের অঞ্চল সীমার কাছাকাছি হলে মাঠের সিদ্ধান্তই কার্যকর থাকে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ